AI Face’ তৈরির প্রবণতা
‘AI Face’ তৈরির প্রবণতা:
সম্প্রতি বিভিন্ন দেশে প্লাস্টিক সার্জনরা একটি নতুন প্রবণতা লক্ষ্য করছেন, যাকে তারা “AI Face” নামে অভিহিত করছেন। অনেক রোগী এখন নিজেদের ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে সম্পাদনা করে বা চ্যাটবটের মাধ্যমে আদর্শ চেহারার ছবি তৈরি করে সার্জনের কাছে যাচ্ছেন এবং সেই চেহারা বাস্তবে পাওয়ার দাবি করছেন।
ব্রিটিশ প্লাস্টিক সার্জন ডা. নোরা নুজেন্ট জানান, আগে রোগীরা কোনো অভিনেতা, মডেল বা সেলিব্রিটির ছবি দেখিয়ে অনুরোধ করতেন। এখন তারা AI-সৃষ্ট নিজেরই একটি “নিখুঁত সংস্করণ” নিয়ে আসছেন। এসব ছবিতে সাধারণত দেখা যায়—
একদম মসৃণ ও দাগহীন ত্বক,
সম্পূর্ণ সমমিত (symmetrical) মুখ,অত্যন্ত ধারালো চোয়াল,
বড় ও আকর্ষণীয় চোখ,বয়সের কোনো চিহ্নহীন চেহারা।
সমস্যা হলো, AI খুব সহজে ডিজিটাল ছবিতে এসব পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু মানুষের শরীর ও মুখের বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শতভাগ সমমিত মুখ, চিরযৌবন বা AI-নির্মিত নিখুঁত বৈশিষ্ট্য তৈরি করা সম্ভব নয়। চিকিৎসকেরা রোগীদের বোঝাতে বাধ্য হন যে বাস্তব ফলাফল নির্ভর করে শরীরের গঠন, ত্বকের অবস্থা, নিরাময় প্রক্রিয়া এবং বয়স বৃদ্ধির মতো বিষয়ের ওপর।
কিছু সার্জন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে AI-সৃষ্ট “আগে ও পরে” ধরনের ছবি ব্যবহার করে কসমেটিক সার্জারির প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে এবং অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, AI সৌন্দর্যের একটি একরকম মানদণ্ড তৈরি করছে, যেখানে সবাই একই ধরনের মুখের দিকে ঝুঁকছে—যেমন V-আকৃতির চোয়াল, অতিরিক্ত মসৃণ ত্বক বা নির্দিষ্ট ধরনের নাক ও ঠোঁট। এর ফলে ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও স্বাভাবিক সৌন্দর্যের মূল্য কমে যেতে পারে।
উৎস: দ্যা গার্ডিয়ান





















