পরিবেশ রক্ষা না হলে ঝুঁকিতে পড়বে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম” —বাহুবলে সিলিকা বালু উত্তোলন রোধে পরামর্শ সভা
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকিতে চা বাগান ও সংলগ্ন ছড়া থেকে অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন রোধে মহামান্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অবহিতকরণ এবং বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে এক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর উদ্যোগে এবং স্থানীয় সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘের সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।
শনিবার (২৩ মে, ২০২৬) স্থানীয় একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘের সভাপতি মোঃ কেফায়েত উল্লা। সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী দরবেশের সঞ্চালনায় সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা জাকারিয়া।
সভায় প্রধান অতিথি ও মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেলার সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী এডভোকেট শাহ সাহেদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বেলার সিলেট বিভাগের সহ সমন্বয়ক নিরুপম, বেলার হবিগঞ্জ জেলার নেটওয়ার্ক মেম্বার এবং সেন্ট্রাল ক্রিয়েটিভ কলেজ, হবিগঞ্জের ভাইস প্রিন্সিপাল মোঃ জালাল উদ্দিন রুমি।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেলার সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী এডভোকেট শাহ সাহেদা বলেন, “অননুমোদিত এবং অপরিকল্পিতভাবে চা বাগান ও প্রাকৃতিক ছড়া থেকে সিলিকা বালু উত্তোলনের ফলে স্থানীয় পরিবেশ, প্রতিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। মহামান্য উচ্চ আদালত এই অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। আইনি এই নির্দেশনা অমান্য করে যারা পরিবেশের ক্ষতি করছে, তারা পার পাবে না। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বেলা সবসময় সোচ্চার এবং স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে এই পরিবেশগত বিপর্যয় রুখতে আমরা আইনি লড়াই আরও জোরদার করব।”
সভাপতির বক্তব্যে সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘের সভাপতি মোঃ কেফায়েত উল্লা বলেন, “আমাদের এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ, চা বাগান এবং ছড়াগুলো অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। মহামান্য উচ্চ আদালতের যে নির্দেশনা রয়েছে, তা অমান্য করে যারা পরিবেশের ক্ষতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের যুব সমাজ এবং এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে আমরা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলব। পরিবেশ রক্ষা না হলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভাদেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও সংগঠনের উপদেষ্টা মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, “জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার পরিবেশ ও জনগণের জানমাল রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। ছড়া ও চা বাগান থেকে যেভাবে সিলিকা বালু তোলা হচ্ছে, তাতে স্থানীয় অবকাঠামো ও কৃষিজমি হুমকিতে রয়েছে। আইনি নির্দেশনা বাস্তবায়নে এবং অবৈধ বালুখেকোদের রুখতে আমরা প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করছি।”
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মোঃ টেনু মিয়া এবং মোঃ উস্তার মিয়া।
পরামর্শ সভা শেষে বেলার সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী এডভোকেট শাহ সাহেদা এবং ভাইস প্রিন্সিপাল মোঃ জালাল উদ্দিন রুমি স্থানীয় যুব সংঘের নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চা বাগান ও ছড়া এলাকা পায়ে হেঁটে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তারা বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট বর্তমান পরিবেশগত বিপর্যয়ের বাস্তব চিত্র প্রত্যক্ষ করেন এবং এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকরী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কাউসার মিয়া, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মিয়া, অর্থ সম্পাদক আব্দুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক জাহিদ মিয়া, সহ-দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লা, সহ-প্রচার সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম সেলিম, সহ-অর্থ সম্পাদক হাফেজ জুবায়ের, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সাইফুর রহমান এবং সমাজসেবক মাসুক মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
















