ঢাকা ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মন্ত্রীত্ব পেলেন বিএনপির গুলশান কার্যলয়ের মালিক জাকারিয়া তাহের

কাজী মাহমুদুল হক সুজন:

 

বিএনপির গুলশান কার্যালয়, দলটির নীতি নির্ধারণের মূল কেন্দ্র। ২০০৮ সাল থেকে দেশের রাজনীতির নানান চড়াই উৎরাইয়ের সাক্ষী এই বাড়িটি। ফ্যাসিস্ট সরকারের রোশানলে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ বন্দী জীবন কেটেছে এখানে। বিএনপি চেয়ারপারসনকে বালুর ট্রাক দিয়ে আটকে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে এখানে। গত দেড় দশক দিনরাত পুলিশি বেষ্টনীতে আবদ্ধ থাকতো বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় হিসেবে পরিচিত গুলশানের এই বাড়িটি।

অনেকে মনে করেন এই বাড়িটির মালিক বিএনপি। কিন্তু না, উইকিপিডিয়া বলছে-এই বাড়িটি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের। ২০০৮ সালের চরম প্রতিকূল সময়ে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য বাড়িটি দিয়েছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সীমাহীন চাপের মধ্যেও বাড়িটি থেকে দলের কার্যালয় সরাননি জাকারিয়া তাহের। অনকেই মনেকরেন সেই একনিষ্ঠতার পুরষ্কার হিসেবে মন্ত্রিসভায় তিনি স্থান পেয়েছেন।
কিন্তু কুমিল্লা-৮ আসন থেকে নির্বাচিত জাকারিয়া তাহের তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিকুল আলম হেলালের চেয়ে প্রায় চারগুন বেশি ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া আসনের সবকটি কেন্দ্রে বিজয়ী হয়ে ভিন্ন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জাকারিয়া তাহের।

জাকারিয়া তাহের নতুন মন্ত্রিসভার অন্যতম শীর্ষ ধনী মন্ত্রী। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, শুধু তার নিজেরই রয়েছে ২৩১ কোটি ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ।

জাকারিয়া তাহেরের জন্ম কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামে। ১৯৬৫ সালে জন্ম নেওয়া জাকারিয়া তাহের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে বিএসসি সম্পন্ন করেছেন। তার বাবা প্রয়াত এ কে এম আবু তাহের কুমিল্লা-৮ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছিলেন। ২০০৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর স্থানীয় রাজনীতির হাল ধরে উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাকারিয়া তাহের। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। তবে এবার একই আসন থেকে লড়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দী থেকে বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন তিনি।

জাকারিয়া তাহের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও পরবর্তীকালে দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাবা এ কে এম আবু তাহের বাংলাদেশে অন্যতম শিল্পপতি। তিনি ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ছিলেন। জাকারিয়া তাহেরও ন্যাশনাল ব্যাংকের একজন পরিচালক। রাজনৈতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের জন্যন কুমিল্লার বরুড়ায় বেশ জনপ্রিয় তাহের পরিবার।

জাকারিয়া তাহের মন্ত্রী হওয়ায় উৎফুল্ল এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, কাজের মাধ্যমে সারাদেশের মানুষের মন জয় করবেন বরুড়ার এই সন্তান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৫২:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
০ বার পড়া হয়েছে

মন্ত্রীত্ব পেলেন বিএনপির গুলশান কার্যলয়ের মালিক জাকারিয়া তাহের

আপডেট সময় ১০:৫২:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

বিএনপির গুলশান কার্যালয়, দলটির নীতি নির্ধারণের মূল কেন্দ্র। ২০০৮ সাল থেকে দেশের রাজনীতির নানান চড়াই উৎরাইয়ের সাক্ষী এই বাড়িটি। ফ্যাসিস্ট সরকারের রোশানলে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ বন্দী জীবন কেটেছে এখানে। বিএনপি চেয়ারপারসনকে বালুর ট্রাক দিয়ে আটকে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে এখানে। গত দেড় দশক দিনরাত পুলিশি বেষ্টনীতে আবদ্ধ থাকতো বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় হিসেবে পরিচিত গুলশানের এই বাড়িটি।

অনেকে মনে করেন এই বাড়িটির মালিক বিএনপি। কিন্তু না, উইকিপিডিয়া বলছে-এই বাড়িটি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের। ২০০৮ সালের চরম প্রতিকূল সময়ে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য বাড়িটি দিয়েছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সীমাহীন চাপের মধ্যেও বাড়িটি থেকে দলের কার্যালয় সরাননি জাকারিয়া তাহের। অনকেই মনেকরেন সেই একনিষ্ঠতার পুরষ্কার হিসেবে মন্ত্রিসভায় তিনি স্থান পেয়েছেন।
কিন্তু কুমিল্লা-৮ আসন থেকে নির্বাচিত জাকারিয়া তাহের তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিকুল আলম হেলালের চেয়ে প্রায় চারগুন বেশি ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া আসনের সবকটি কেন্দ্রে বিজয়ী হয়ে ভিন্ন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জাকারিয়া তাহের।

জাকারিয়া তাহের নতুন মন্ত্রিসভার অন্যতম শীর্ষ ধনী মন্ত্রী। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, শুধু তার নিজেরই রয়েছে ২৩১ কোটি ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ।

জাকারিয়া তাহেরের জন্ম কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামে। ১৯৬৫ সালে জন্ম নেওয়া জাকারিয়া তাহের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে বিএসসি সম্পন্ন করেছেন। তার বাবা প্রয়াত এ কে এম আবু তাহের কুমিল্লা-৮ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছিলেন। ২০০৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর স্থানীয় রাজনীতির হাল ধরে উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাকারিয়া তাহের। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। তবে এবার একই আসন থেকে লড়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দী থেকে বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন তিনি।

জাকারিয়া তাহের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও পরবর্তীকালে দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাবা এ কে এম আবু তাহের বাংলাদেশে অন্যতম শিল্পপতি। তিনি ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ছিলেন। জাকারিয়া তাহেরও ন্যাশনাল ব্যাংকের একজন পরিচালক। রাজনৈতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের জন্যন কুমিল্লার বরুড়ায় বেশ জনপ্রিয় তাহের পরিবার।

জাকারিয়া তাহের মন্ত্রী হওয়ায় উৎফুল্ল এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, কাজের মাধ্যমে সারাদেশের মানুষের মন জয় করবেন বরুড়ার এই সন্তান।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/dainikprohor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481