স্মৃতিতে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ
তাঁকে বলা হয় বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ‘কিপটে’ রাষ্ট্রপতি। কিন্তু তাঁর এই কিপটেমি নিজের জন্য ছিল না, ছিল দেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকার অপচয় রোধ করার জন্য। তিনি আর কেউ নন—
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ। ক্ষমতার মোহ যাঁকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি, সততা আর মেধা দিয়ে যিনি জয় করেছিলেন কোটি মানুষের হৃদয়।
রাষ্ট্রপতি হয়েও প্রয়োজন ছাড়া তিনি বঙ্গভবনে আসতেন না। এমনকি বিদেশে থাকা ছেলের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপের ১৭০০ টাকা টেলিফোন বিল তিনি নিজের পকেট থেকে দিয়েছিলেন, অথচ নিয়ম অনুযায়ী তা রাষ্ট্রের দেওয়ার কথা ছিল।
তাঁর টেবিলে কখনো কোনো ফাইল জমা পড়ে থাকতে দেখা যায়নি। দায়িত্ববোধের দিক থেকে তিনি ছিলেন এক বিরল দৃষ্টান্ত
১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের পতনের পর যখন দেশ এক ক্রান্তিকাল পার করছিল, তখন সব রাজনৈতিক দল একবাক্যে তাঁকেই অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে চেয়েছিল। তিনি শর্ত দিয়েছিলেন,
একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়ে তিনি আবার তাঁর প্রধান বিচারপতির চেয়ারে ফিরে যাবেন। তাঁর সেই শর্ত পূরণ করতে পরবর্তীতে সংবিধানে একাদশ সংশোধনী আনতে হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে পাওয়া দামী সব উপহার তিনি নিজের জন্য না রেখে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে দিতেন। বঙ্গভবনে অপ্রয়োজনীয় পদ বাতিল করে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করেছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন পুরোপুরি দলকানামুক্ত একজন মানুষ।
যার ফলে ২০০১ সালের নির্বাচনের পর তাঁর বিখ্যাত সেই আক্ষেপটি আজও মনে পড়ে— “তাদের কথায় সায় দিলে আমি ফেরেশতা, না দিলে শয়তান!”
২০২২ সালের ১৯শে মার্চ ৯২ বছর বয়সে এই উজ্জ্বল নক্ষত্রটি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। আজকের দিনে ক্ষমতার চেয়ারে বসে যাঁরা দুর্নীতির মহোৎসবে মেতে ওঠেন, বিচারপতি
শাহাবুদ্দিন আহমেদ তাঁদের জন্য এক বড় চপেটাঘাত। ক্ষমতার মঞ্চে অনেক নেতা আসেন, অনেক নেতা যান, কিন্তু শাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রমাণ করে গেছেন সততা আর দায়িত্ববোধ থাকলে ক্ষমতার মোহ কাউকে অন্ধ করতে পারে না।
আমাদের দেশে কি আর কখনো এমন নির্লোভ ও সৎ রাষ্ট্রনায়ক আসবে? এই মহান মানুষটির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইলো।















