ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রেমা-কালেঙ্গা বনে গোলাগুলির ঘটনায় ১০ জনের নামসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে চুনারুঘাট থানায় মামলা

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রেমা-কালেঙ্গা বনে গোলাগুলির ঘটনায়

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রেমা–কালেঙ্গা সংরক্ষিত বনে গোলাগুলির ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, সংঘবদ্ধভাবে অস্ত্রসহ অনধিকার প্রবেশ, অবৈধভাবে গাছ কাটা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে চুনারুঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

রেমা বন বিটের বিট কর্মকর্তা আল আমিন বাদী হয়ে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকালে মামলাটি দায়ের করেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা হলেন পীরপুর গ্রামের আব্দুল করিমের পুত্র সুমন মিয়া (৩০), পীরপুর গ্রামের আব্দুল রহিমের পুত্র মো. শাহিন মিয়া (৩২), নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কাছম আলীর পুত্র মো. মানিক মিয়া (২৫), মো. শফিক মিয়া (২৭), মো. সাহিদ মিয়া (২৯), আমিরপুর গ্রামের সহিদ মিয়ার পুত্র মো. সুমন মিয়া (২৬), নিশ্চিন্তপুর গ্রামের অজ্ঞাত পিতার পুত্র মো. মিশন মিয়া (২৭), মো. কাওসার আলম দুলাল (২৮), মো. পারভেজ মিয়া (২৮) এবং পীরপুর গ্রামের অজ্ঞাত পিতার পুত্র মিস্টার মোল্লা (৩৫)। সকল আসামি চুনারুঘাট থানার ১০ নম্বর মিরাশী ইউনিয়নের বাসিন্দা।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ১১ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বন বিভাগের একটি টহল দল কালেঙ্গা বিট এলাকায় নিয়মিত টহলে বের হয়। দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে কালেঙ্গা রেঞ্জের নিশ্চিন্তপুর খোয়াইছড়া এলাকায় গাছ কাটার শব্দ পেয়ে টহল দল ঘটনাস্থলে অগ্রসর হয়। সেখানে টর্চলাইট জ্বালিয়ে আসামিদের গাছ কাটতে দেখা যায়।

বন বিভাগের সদস্যরা বাধা দিলে আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারমুখী হয়ে ওঠে এবং প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে বন বিভাগের সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান।

পরবর্তীতে বিজিবির সহায়তায় পুনরায় অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে দেখা যায়, আসামিরা ১২টি সেগুন ও ৮টি আকাশমণি গাছ কেটে নিয়ে গেছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে সেগুন ও আকাশমণি গাছের মোট ৫৭ টুকরা গোলকাঠ উদ্ধার করা হয়, যার পরিমাণ ১১৬ দশমিক ২৯ ঘনফুট। উদ্ধারকৃত কাঠের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দেড় লক্ষ টাকা।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
২৩ বার পড়া হয়েছে

রেমা-কালেঙ্গা বনে গোলাগুলির ঘটনায় ১০ জনের নামসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে চুনারুঘাট থানায় মামলা

আপডেট সময় ০৭:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

রেমা-কালেঙ্গা বনে গোলাগুলির ঘটনায়

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রেমা–কালেঙ্গা সংরক্ষিত বনে গোলাগুলির ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, সংঘবদ্ধভাবে অস্ত্রসহ অনধিকার প্রবেশ, অবৈধভাবে গাছ কাটা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে চুনারুঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

রেমা বন বিটের বিট কর্মকর্তা আল আমিন বাদী হয়ে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকালে মামলাটি দায়ের করেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা হলেন পীরপুর গ্রামের আব্দুল করিমের পুত্র সুমন মিয়া (৩০), পীরপুর গ্রামের আব্দুল রহিমের পুত্র মো. শাহিন মিয়া (৩২), নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কাছম আলীর পুত্র মো. মানিক মিয়া (২৫), মো. শফিক মিয়া (২৭), মো. সাহিদ মিয়া (২৯), আমিরপুর গ্রামের সহিদ মিয়ার পুত্র মো. সুমন মিয়া (২৬), নিশ্চিন্তপুর গ্রামের অজ্ঞাত পিতার পুত্র মো. মিশন মিয়া (২৭), মো. কাওসার আলম দুলাল (২৮), মো. পারভেজ মিয়া (২৮) এবং পীরপুর গ্রামের অজ্ঞাত পিতার পুত্র মিস্টার মোল্লা (৩৫)। সকল আসামি চুনারুঘাট থানার ১০ নম্বর মিরাশী ইউনিয়নের বাসিন্দা।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ১১ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বন বিভাগের একটি টহল দল কালেঙ্গা বিট এলাকায় নিয়মিত টহলে বের হয়। দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে কালেঙ্গা রেঞ্জের নিশ্চিন্তপুর খোয়াইছড়া এলাকায় গাছ কাটার শব্দ পেয়ে টহল দল ঘটনাস্থলে অগ্রসর হয়। সেখানে টর্চলাইট জ্বালিয়ে আসামিদের গাছ কাটতে দেখা যায়।

বন বিভাগের সদস্যরা বাধা দিলে আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারমুখী হয়ে ওঠে এবং প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে বন বিভাগের সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান।

পরবর্তীতে বিজিবির সহায়তায় পুনরায় অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে দেখা যায়, আসামিরা ১২টি সেগুন ও ৮টি আকাশমণি গাছ কেটে নিয়ে গেছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে সেগুন ও আকাশমণি গাছের মোট ৫৭ টুকরা গোলকাঠ উদ্ধার করা হয়, যার পরিমাণ ১১৬ দশমিক ২৯ ঘনফুট। উদ্ধারকৃত কাঠের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দেড় লক্ষ টাকা।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/dainikprohor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481