ওয়াহাবীদের কাছে ভোট চাইতে গিয়ে বিতর্কিত তাহেরি, নেট দুনিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়
হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনের সুন্নি জোট মনোনীত প্রার্থী মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরিকে ঘিরে এলাকায় বিতর্ক ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি একটি মাহফিলে ওয়াহাবী মতাদর্শের অনুসারীদের সঙ্গে আত্মীয়তা, তাদের পেছনে নামাজ আদায়, জানাজায় অংশগ্রহণ, কন্যা বিবাহ দেওয়া, সালাম দেওয়া এমনকি তাদের কবর জিয়ারতও করা যাবে না এমন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে।
এরপরও ওই মতাদর্শের অনুসারীদের কাছেই ভোট চাইতে যাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সোমবার রাতে চুনারুঘাট উপজেলার সাটিয়াজুরী ইউনিয়নের সুন্দরপুর বাজারে নির্বাচনী প্রচারণাকালে এক দোকানদারের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় তিনি সালাম দিয়ে হাত মেলান।
এ সময় ওই দোকানদার নিজেকে ওয়াহাবী মতাদর্শের অনুসারী দাবি করে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন ওয়াহাবীদের সঙ্গে সম্পর্ক নিষিদ্ধ বলার পর তিনি কেন তাদের কাছেই হাত মিলিয়ে ভোট চাইছেন।
এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কিছু সময় যুক্তিতর্ক হয়। একপর্যায়ে মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরি বলেন, রাজনীতির সঙ্গে আকিদার কোনো সম্পর্ক নেই।
যাদের আকিদাগত সমস্যা রয়েছে, তাদের বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছিলাম। তবে রাজনীতি ও আকিদা আলাদা বিষয়। রাজনীতি হবে ইনসাফের ভিত্তিতে। এরপর তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পরে বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়টি স্বীকার করে মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরি বলেন, ধর্ম, বর্ণ কিংবা দলমত নির্বিশেষে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাউকে আলাদা করার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচিত হলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে চলব।
তিনি আরও বলেন, যাদের আকিদাগত সমস্যা রয়েছে, তাদের বিষয়ে আমি বক্তব্য দিয়েছিলাম। তবে রাজনীতি ও আকিদা আলাদা বিষয়।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বক্তব্য ও আচরণের মধ্যে অসঙ্গতির বিষয়টি সামনে আনছেন।











