ঢাকা ০৫:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেজাল্টের একদিন আগে মারা যাওয়া বাহুবলের রেজা পেয়েছে ৪.১১ পয়েন্ট

কাজী মাহমুদুল হক সুজন:

ফলাফলের ১ দিন আগে মারা যাওয়া হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার চক্রামপুর গ্রামে কাজী রেজা (১৬) পেয়েছে ৪.১১ পয়েন্ট।

সোমবার প্রকাশ হওয়া ফলাফলে দেখা যায়
বাহুবল উপজেলার মিরপুর সানশাইন মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সে ৪.১১ পেয়ে উত্তীর্ন হয়েছে।
তবে নিজের সেই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আর জানা হলো না তার। ফল প্রকাশের ঠিক একদিন আগে গত রবিবার হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় মারা যান তিনি।

কাজী রেজা উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের চক্রামপুর গ্রামের কাজী বাড়ির কাজী আলফু মিয়ার ছেলে। এ বছর উপজেলার মিরপুর সানশাইন মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় পড়েন রেজা। পরে তার মৃত্যু হয়। সন্ধ্যায় তার জানাযা নামাজ শেষে তাকে পারিবারিক কবর স্থানে দাপন করা হয়।

সোমবার এসএসসির ফল প্রকাশের পর জানা যায়, কাজী রেজা ৪.১১ জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু যে ফলাফলের জন্য রেজা ও তার পরিবার অপেক্ষা করছিল, সেই ফল হাতে আসার আগেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। রেজার ফলাফল জানার পর পরিবারে স্বজনদের মাঝে একদিকে যেমন তার সাফল্যের খবর, অন্যদিকে তেমনি প্রিয় সন্তানকে হারানোর বেদনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। আনন্দের মুহূর্তটি পরিণত হয় গভীর শোকে।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত বাবা-মা ও স্বজনরা। সহপাঠীর আকস্মিক মৃত্যুর খবরেও ভেঙে পড়েছেন তার বন্ধুরা। রেজার এমন অকাল মৃত্যুতে শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
কাজী রেজার বিদ্যালয়ের পরিচালক এম শামসুদ্দিন বলেন মেধাবী ছাত্র ছিল কাজী রেজা। তার আকস্মিক মৃত্যু সহপাঠী, শিক্ষক ও বিদ্যালয়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
তিনি বলেন রেজা নেই,তবে পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে।
রেজার পরিবার ও স্থানীয়দের জন্য ৪.১১ জিপিএ যেন আজ স্বজনদের কাছে আনন্দের নয়, বরং এক অশ্রুসিক্ত স্মৃতি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
৪ বার পড়া হয়েছে

রেজাল্টের একদিন আগে মারা যাওয়া বাহুবলের রেজা পেয়েছে ৪.১১ পয়েন্ট

আপডেট সময় ০৪:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

ফলাফলের ১ দিন আগে মারা যাওয়া হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার চক্রামপুর গ্রামে কাজী রেজা (১৬) পেয়েছে ৪.১১ পয়েন্ট।

সোমবার প্রকাশ হওয়া ফলাফলে দেখা যায়
বাহুবল উপজেলার মিরপুর সানশাইন মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সে ৪.১১ পেয়ে উত্তীর্ন হয়েছে।
তবে নিজের সেই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আর জানা হলো না তার। ফল প্রকাশের ঠিক একদিন আগে গত রবিবার হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় মারা যান তিনি।

কাজী রেজা উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের চক্রামপুর গ্রামের কাজী বাড়ির কাজী আলফু মিয়ার ছেলে। এ বছর উপজেলার মিরপুর সানশাইন মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় পড়েন রেজা। পরে তার মৃত্যু হয়। সন্ধ্যায় তার জানাযা নামাজ শেষে তাকে পারিবারিক কবর স্থানে দাপন করা হয়।

সোমবার এসএসসির ফল প্রকাশের পর জানা যায়, কাজী রেজা ৪.১১ জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু যে ফলাফলের জন্য রেজা ও তার পরিবার অপেক্ষা করছিল, সেই ফল হাতে আসার আগেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। রেজার ফলাফল জানার পর পরিবারে স্বজনদের মাঝে একদিকে যেমন তার সাফল্যের খবর, অন্যদিকে তেমনি প্রিয় সন্তানকে হারানোর বেদনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। আনন্দের মুহূর্তটি পরিণত হয় গভীর শোকে।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত বাবা-মা ও স্বজনরা। সহপাঠীর আকস্মিক মৃত্যুর খবরেও ভেঙে পড়েছেন তার বন্ধুরা। রেজার এমন অকাল মৃত্যুতে শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
কাজী রেজার বিদ্যালয়ের পরিচালক এম শামসুদ্দিন বলেন মেধাবী ছাত্র ছিল কাজী রেজা। তার আকস্মিক মৃত্যু সহপাঠী, শিক্ষক ও বিদ্যালয়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
তিনি বলেন রেজা নেই,তবে পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে।
রেজার পরিবার ও স্থানীয়দের জন্য ৪.১১ জিপিএ যেন আজ স্বজনদের কাছে আনন্দের নয়, বরং এক অশ্রুসিক্ত স্মৃতি।